E Passport Application Rules | ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

বর্তমান সময়ে আপনি নিজেই ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করতে পারেন। জানুন ই পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে।

অনলাইনে E Passport আবেদন কিভাবে করবেন বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই ব্লগে । আপনার একটি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন থাকলে কোন ধরনের দালালের সাহায্য ছাড়া ঘরে বসে অনলাইনে ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করে ফেলতে পারবেন।

আপনি অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম (Bangladesh Passport Online Form) পূরন করবেন তার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ করুন ।

সর্বশেষ আপডেট ও সহযোগিতার জন্য WhatsApp যোগ দিন

WhatsApp ChannelJoin WhatsApp
Facebook PageFollow on Facebook

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

E-Passport এর আবেদন করার ক্ষেত্রে সবথেকে সুবিধা জনক ধাপ হল কাগজপত্রগুলো সত্যায়িত বা ভেরিফাই করার প্রয়োজন হয় না। খুব অল্প কাগজপত্র দিয়ে অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানুন- পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

ই-পাসপোর্ট করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন তা হচ্ছে:

  • Online Application Summary;
  • Online Registration Form;
  • জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ (বয়স ২০ এর কম ও এনআইডি না থাকলে);
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র/ ইউটিলিটি বিলের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
  • পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ফটোকপি (রিনিউয়ের জন্য);
  • পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ( অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৮ বছরের কম);
  • পেশাজীবির ক্ষেত্রে- যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি এদের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদের ফটোকপি বা চাকুরীর আইডি কার্ড;
  • নাগরিক সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

E Passport আবেদন করার নিয়ম

পাসপোর্ট করার জন্য ভিজিট করুন www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে। এরপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য অনুসারে অনলাইনে আবেদন করুন। আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য এবং পিতা-মাতা সকল তথ্য আপনার আইডি অনুসারে লিখুন। এরপর পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করে আবেদনটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।

জাতীয় ‍পরিচয়পত্র(NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী আবেদনকারীর সকল তথ্য পুরন করতে হবে। অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক নির্দেশনাবলী মেনে চলুন। আবেদনে কোন ভুল করলে পরবর্তীতে এটি নিয়ে আপনাকে অনেকটা ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

আপনার ই-পাসপোর্ট হয়েছে কিনা তা অনলাইনেই চেক করতে পারবেন। দেখুন ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম।

ধাপ ১: ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন

পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য www.epassport.gov.bd ভিজিট করে Apply Online মেন্যুতে ক্লিক করুন। তারপর পরবর্তী পেজে আসুন ।

ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের আগে অবশ্যই আপনাকে জেনে নিতে হবে আপনার জেলায় E Passport সেবা চালু আছে কিনা। চালুকৃত ই-পাসপোর্ট অফিসগুলির তালিকা

E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

ধাপ ২: আঞ্চলিক অফিস ও থানা নির্বাচন করুন

ভিজিট করুন- E-passport application এই লিংকে। আপনি নিচের ছবির মত একটি পেইজ দেখবেন। এখানে আপনার আঞ্চলিক অফিস এবং থানা সিলেক্ট করুন। এরপরে Continue বাটনে ক্লিক করুন ।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

ইমেইল ভেরিফিকেশন করুন

পরবর্তীতে আপনাকে ইমেইল এড্রেস ভেরিফাই করতে হবে । আপনার ইমেইল এড্রেস বসিয়ে নিচের I am human টিক দিয়ে Continue বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে ইমেইল এড্রেস এবং ৬ সংখ্যার বেশি পাসওয়ার্ড অবশ্যই আপনার মনে রাখতে হবে । পরবর্তীতে উক্ত ইমেল এড্রেস এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার প্রয়োজন হবে। ইমেইল ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করে ব্যক্তিগত তথ্যাদি প্রদান করুন। এখানে আপনার সকল ব্যক্তিগত তথ্য গুলো ইংরেজিতে সঠিকভাবে পূরণ করুন।

এখানে আপনার নাম ও মোবাইল নম্বর বসিয়ে নিচের I am human টিক দিয়ে Create Account বাটনে ক্লিক করুন।

E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

ধাপ ৩: ইমেইল ভেরিফিকেশন করুন

এরপরে আপনার দেওয়া ইমেইল এড্রেসে পাসপোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মেইলের মাধ্যমে একটি ভেরিফিকেশন লিংক পাঠাবে। উক্ত লিংকে ক্লিক করে ইমেইল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

ইমেইল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার পরে উক্ত ইমেল এড্রেস এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

পরবর্তী ছবি দেখে প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ করুন ।

পরবর্তী ছবি দেখে প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ করুন । ইমেল এড্রেস এবং পাসওয়ার্ড বসিয়ে নিচের I am human টিক দিয়ে Sign In বাটনে ক্লিক করুন।

ইমেইল ভেরিফিকেশনের করুন তারপর পুনরায় পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে Login করুন

ধাপ ৪: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে লগইন করার পরে । এবার Apply for a New e-Passport বাটনে ক্লিক করে Passport Type হিসেবে সাধারণ পাসপোর্ট হলে Ordinary ও সরকারি আদেশে বা NOC এর মাধ্যমে পাসপোর্ট Official সিলেক্ট করুন।

E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

ছবি দেখে প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ করুন । ই-পাসপোর্ট আবেদনে সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিন।

এখানে Personal Information ব্যক্তিগত তথ্যাদি প্রদান করুন । আপনার নাম, পেশা, ধর্ম এবং ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: ঠিকানা পূরণ করুন

আপনার Present Address ও Permanent Address সঠিকভাবে প্রদান করুন। যদি আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা একই হয় তাহলে নিচের বক্সে টিক দিয়ে দিন। তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ই-পাসপোর্ট রিনিউ Passport Renewal
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

ID Documents:

আপনার পূর্বের পাসপোর্ট থাকলে Yes দিন আর না থাকলে No, I don’t have any previous/ handwritten passport দিবেন। নিচে অন্য দেশের পাসপোর্ট আছে কিনা সিলেক্ট করে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিতে হবে।

১৮-২০ বছরের মধ্যে বয়স হলে আপনি জন্ম নিবন্ধন (BRC) বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যে কোন একটি দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

ধাপ ৬: পিতা-মাতার তথ্যাদি প্রদান করুন

পিতা-মাতার তথ্যাদি প্রদান করুন । যেমনঃ পুরো নাম, পেশা, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ।

ই-পাসপোর্ট (E Passport) আবেদন করার জন্য ১৮ বছরের নিচে বয়স হলে আইনসম্মত অভিভাবকের তথ্য দিতে হবে। তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

Spouse Information

বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করুন । আপনি যদি বিবাহিত হন তাহলে স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যাদি প্রদান করুন । পুরো নাম, পেশা, জাতীয়তা, ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ।

তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৭: জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য

Emergency Contact: জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য আপনার পরিবারের সদস্য যেমন মা-বাবা, ভাই-বোন বা অন্য কারো নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে।

তথ্যগুলো প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

Passport Option: আপনার পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং মেয়াদ Select করুন। তথ্য প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ই-পাসপোর্ট রিনিউ Passport fee
E Passport fee | ই পাসপোর্ট আবেদন ফি

ধাপ ৭: Delivery Options & Appointment

এই ধাপ থেকে Passport Delivery সাধারণ না জরুরী তা সিলেক্ট করুন। জরুরী হলে Express ও সাধারণ হলে Regular সিলেক্ট করুন। তথ্য প্রদান করে Save and Continue বাটনে ক্লিক করুন।

ই-পাসপোর্ট রিনিউ Passport Renewal
ই-পাসপোর্ট রিনিউ

এই পেজে আসার পর আপনার সমস্ত তথ্য দেখানো হবে। খুবই মনোযোগ দিয়ে তথ্যগুলো যাচাই করুন। যদি কোথায় ভুল থাকে তবে Edit করতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এখন সাবমিট করতে হবে। সবশেষে উপরে প্রদানকৃত সকল তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করে আবেদন জমা দিতে Submit বাটনে ক্লিক করুন।

Then,

Declaration of consent
আমি শপথ করে বলছি যে, আবেদন পত্রে প্রদত্ত সকল তথ্য সত্য। আমি পাসপোর্ট আইন এবং বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত আছি। কোন অসত্য তথ্য প্রদান অথবা কোন তথ্য গোপন করলে উক্ত আইন/বিধানাবলি আমার উপর আরোপযোগ্য হবে।

টিক দিয়ে Confirm and proceed to payment বাটনে ক্লিক করুন।

পাসপোর্ট ফি Online বা Offline ২ ভাবেই পেমেন্ট করা যায় । আপনি চাইলে Online Banking বা Mobile Wallet এর মাধ্যমে নিজেই অনলাইনে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন। Offline Payment Method যেমন ব্যাংক থেকে A Challan করতে পারবেন । আপনার কাছে যে পদ্ধতি ভালো মনে হয় তা দিয়ে ফি পরিশোধ করুন।

যদি Offline Payment Method ব্যবহার করেন, তবে Continue করলেই এটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম
ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

ধাপ ৭: পাসপোর্ট ফি প্রদান ও আবেদন প্রিন্ট

ই পাসপোর্ট আবেদন সফলভাবে Submit করা হলে প্রিন্ট করার জন্য ২টি PDF ডাউনলোড করতে হবে। 1) Application Form, 2) Print Summary এগুলো কম্পিউটার থেকে ভালভাবে প্রিন্ট করে নিবেন। কম্পিউটার না থাকলে পিডিএফ ফাইল হিসেবে আপনার ডিভাইসে সেইভ করুন এরপর কোন কম্পিউটার সেবা দোকান থেকে প্রিন্ট করে নিন।

এবার Print Summery পেইজের প্রিন্ট কপি এবং আপনার এনআইডি নিয়ে ব্যাংকে যান। ব্যাংকে আপনার E Passport ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে Passport Application Summery অনুসারে এ চালানের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করতে হবে।

E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন
E Passport | ই পাসপোর্ট আবেদন

আপনি চাইলে নিজেও A Challan এর মাধ্যমে বিকাশ বা যেকোন ব্যাংক একাউন্ট থেকে ই পাসপোর্ট আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন।

পাসপোর্ট সংশোধন বা রিনিউ আবেদন: যারা পাসপোর্ট সংশোধন বা রিনিউ এর জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন তারা অবশ্যই Yes দিয়ে আগের পাসপোর্টের তথ্য দিবেন। আরও পড়ুন- পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন কোনটি প্রয়োজন?

যদি বয়স ১৮ বছরের কম হয় এখনো জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি হয়নি, তাহলে আপনি অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে ।

ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে

ই পাসপোর্ট করতে সর্বনিম্ন (48 পৃষ্ঠা এবং 5 বছর) ৪০২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ (64 পৃষ্ঠা এবং 10 বছর) ১৩,৮০০ টাকা লাগবে। অনলাইনের মাধ্যমে নিজে ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন । যদি না পারেন তবে আপনার এলাকার কম্পিউটার সেবার কোন প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের জন্য ২০০ -৩০০ টাকা ফি প্রদান করতে হতে পারে। পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারীর ধরণ অনুযায়ী ফি কম বেশি হতে পারে।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম- MRP to E Passport

যদি পূর্বে আপনার এমআরপি পাসপোর্ট থাকে এবং এই পাসপোর্ট-টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাহলে আপনি এটিকে রিনিউ করে নতুন ই পাসপোর্ট পেতে পারেন।

এমআরপি পাসপোর্ট থেকে ই পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য রিনিউ আবেদন করার দরকার নেই, সরাসরি ই পাসপোর্ট আবেদন করতে হবে। যখন আবেদন করবেন তখন ID Documents থেকে শুধুমাত্র আপনার পূর্ববর্তী এমআরপি পাসপোর্টের তথ্য গুলো প্রদান করবেন।

ক্যাটাগরিই-পাসপোর্ট
ই-পাসপোর্ট রিনিউE-Passport Re‑Issue
ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগেRequired Documents
ই-পাসপোর্ট সংশোধনE-Passport Correction
হোমপেইজGovt BD

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *